You are currently viewing রাত্রিদোষ

রাত্রিদোষ

প্রিয় কমলিকা

তুই বেঁচেবর্তে নিশ্চয়ই আছিস এই রূপালী নক্ষত্র ভরা ভোরে
ভূখণ্ডের প্রথম আলোক তোর নাকছাবি স্পর্শ করে
পবিত্র পুরুষ হলে রাত্রিদোষ কেটে যায় তার
এ সকালে সুস্থ হোক সকল সংসার

আমিও আলোর মত ভেঙে ভেঙে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছি উপকূলময়
সবুজ জলের দেহে বিম্বনে ধ্বংসের গান নির্দ্ধ্বারিত তিক্ত পরাজয়
ফুলদানি ভেঙে গেলে মেঝেতে ছড়িয়ে থাকে ফুলকাটা কাচ
কখনও মৃত্তিকা ভাঙে, গ্রহ ভাঙে, ভেঙে যায় সংকল্প, সমাজ
ইতস্তত পড়ে থাকে নক্সাকাটা সেরামিক স্মৃতি
ভেঙে ভেঙে বিস্মরণে জেগে থাকে নাকছাবি দ্যুতি

সম্ভাবনাময় সেই রূপবতী দিনগুলি নষ্টরাত স্পর্শে দুষ্ট হলো
লণ্ঠনের কাচ ভেঙে লাভাস্রোতে প্রবাহিত সভ্যতার সোডিয়াম আলো
আমি তো প্রাচীনপন্থী মদ্যপান বিরোধী তরুণ
অথচ বিষাদলীন আসন্ন সম্ভবা স্বপ্নে
স্ব-মেহনে ঘন লজ্জারুণ
প্রস্তুতিবিহীন আমি রূপান্তরী পৃথিবীর মুখোমুখী দাঁড়িয়ে অবাক
রক্তে ক্যানসারের মত তার শরীরে রাত্রির ছোপ
মুখময় বোলতার ঝাঁক
তবুও প্রার্থনা করি জরামুক্ত হোক এই রাত্রিদোষে দূষিত ভুবন
আমার শরীর ভেঙে ওষধি নির্মিত হোক ভেঙে যাক অপাপ যৌবন
শুধু নিরাময় হোক পাপার্জিত দেহক্ষত, অবসিত হোক কালরাত
তোর বংশধারা বেয়ে আমার মনন খেয়ে বেঁচে থাক অনন্ত প্রভাত

কবিতার বই : হিমঘর
কালধ্বনি
প্রথম প্রকাশ: কলকাতা বইমেলা ১৯৯৪