প্রচ্ছদ | সেপ্টেম্বর ২০২৩

সুব্রত-স্মরণ

এই আমাদের কালধ্বনি। তেমন কিছুই বলার নেই অথবা এটাই আমাদের অনেক কিছু বলা। নিজের জানা, অন্যদের জানা শেয়ার করে নেওয়া। পরিসরের অভাব নেই। সামর্থ্যের অভাব আছে, দারিদ্র্য নেই।  এইটুকু জানি অবিশ্বাসে বাঁচার কষ্ট বইতে পারব না। বিশ্বাস করা যায় এমন মানুষজনই খুঁজি।কালধ্বনিতে এই বিশ্বাস  খুঁজে পেতে সময় বা শ্রম কোনটাই …

কেউ গার্লফ্রেন্ড, কেউবা বয়ফ্রেন্ড বগলদাবা করে ঢুকছে এলিয়ট পার্কে। আর আমি ঢুকছি সুব্রতদার সঙ্গে। আর সুব্রতদা আমার সঙ্গে। বললাম ‘এখানে এলে কেন ?’ ‘চল!’…তো আমরা হনহন করে ছোট একটা বেদি-মত সেখানে গিয়ে বসলাম। চারিদিকে যুগল। আমাকে আর সুব্রতদাকে দেখছে সন্দেহের চোখে। আমাদের অবশ্য খেয়াল অন্যদিকে। আমি জিজ্ঞেস করলাম ‘সুব্রতদা, চলো …

শোকের উচ্চারণ আমার কাছে বরাবর বড্ড দ্বিধার; সে কুণ্ঠা সর্বতোভাবে স্বীকার করেও সন্দীপদার আন্তরিকতাকে অস্বীকার করা গেল না। চলে যাওয়া বিষয়টাই অনভিপ্রেত। কোনরকম বাস্তবিকতার দোহাই অথবা মৃত্যু সম্পর্কিত রোমান্টিকতা দিয়ে এটিকে আমি আড়াল করতে পারি না, চাইও না। আর সুব্রত কাকু এমন একজন ধীরস্থির মানুষ হঠাৎ তাড়াহুড়ো করে কিভাবে হ্যাঁ …

সুব্রতদা চলে গেল। কোনো আগাম নোটিস না দিয়েই। এটা ঠিক না, কিন্তু কী করা যাবে, এরকম হামেশা ঘটছে। হঠাৎ হঠাৎ করে কোনো না কোনো প্রিয়জন কোনো আগাম নোটিস না দিয়েই চিরকালের মত চলে যাচ্ছে। কিছু বলার নেই। কালধ্বনির আড্ডায় আমার উপস্থিতির প্রথম দিন থেকে আমি সুব্রতদাকে পেয়েছিলাম। আকর্ষণের প্রথম কারণ …

সুব্রত দা’কে প্রথম দেখেছি বইমেলায়। কালধ্বনির টেবিলে বসে আছেন একটা চেয়ারে , বেশ সোজা হয়েই, হাত দুটো কোলের ওপর জড়ো করা। কাঁধে ঝোলা ব্যাগ। ঘাড় ঈষৎ বাঁ দিকে কাৎ। আর শেষ দেখলাম, ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালের ফ্রিজারে শোয়ানো। তার বিশদ বিবরণে গেলাম না! প্রথমবারের দর্শনে সুব্রত দা আমার সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। …

লিখলাম বটে, কারণ খুব সহজ হয়ে গেছে এইসব কথা লেখা! ভাবতেই অবাক লাগছে তোর মৃত্যুর পর আমি তোর স্কেচ করছি, লিখছি কালধ্বনির পাতায়! অনেকেই  লিখবেন! তুই এখন আর দেখতেও পাবি না এইসব লেখালিখি! আমার বানান ভুল হবে! ঠিক করার লোক নেই! কারণ তুইই নেই! আমারও দশা খুব একটা সুবিধার নয়!  …

একটা সবুজ মানুষ নদীর পাশে শেকড় ছড়িয়ে আকাশে হেলান দিয়ে মিটিমিটি হাসতো; মাথায় পাতার মুকুট আর চুঁইয়ে নামা আলোর ঝিরিঝিরি নকশা সারামুখে, ডালেডালে তার পাখি আর পরীদের বাসা; পাখিরা রোজ ওর ঘুমভাঙার আগে উড়ে যেতো ভোরবেলার ভেতর, আর বিকেল-কণিকা ঠোঁটে নিয়ে ফিরে আসতো ওর চোখের কোটরে আর শিশির-ভেজা গল্প বলতো, …

কবিতা

কলকে ফুল গাছের মাথায় কে গুঁজেছে ফুল? খোঁপা তো নেই, গাছের মাথায় ফুল কে গুঁজেছে ফুল? কলকে ফুল ভিজতে ভিজতে ইশারা করে কাকে ইশারা করে? বৃষ্টিতে ভিজছে আষাঢ়ি শবর। নদী জলে ছোঁ মেরে উড়ে গেল বক নদী উদাসীন এই নদীতেই হাতি আসে হরিণ আসেএই নদী থেকেই কুমির ওঠে ডাঙায় রোদ …

দুয়ার  বাইরে পুরনো দিন- ছাড়ালেই চোখে পড়ে আবছার ওপারেফাঁকা আবছা মাঠ, দুপুর ততক্ষণে নিভে আসেঢিলেঢালা হাওয়া বইছে – অবিচ্ছিন্ন, একা – অজচ্ছল,কোন দিক চিহ্ন জেনে কটি বয়স্ক ঘোড়া দিব্যি চলেছে এঁকে বেঁকেকবে কোন ব্যস্ততায় ঘোড়া ফেলে চলে গেছে পুরনো সহিসআজ এ পথেই বার্তাবহ একজন পিয়ানো বাদক — সে আনন্দ গাইছিলশেষে, …

নারী দেখা অদেখার আলোছায়া ছুঁয়েআমিই কি শুধু হারি –আকাশ ছুঁয়েছে ঋজু বৃক্ষেরউদ্গত পাতা স্বাধীনখেলা লুটোপুটি রোদের আদরেআঁধার তাড়ানো খুশী-সঞ্চারীনিজের উঠোনে নিজের পৃথিবীগুছিয়ে রাখতে পারি যা দেখিলে তুমি তাই কি চেয়েছোছিঁড়েখুঁড়ে গেলে বুকের আকাশতুলসী মঞ্চ করে হাহাকারঅসাড় চেতনা অন্ধ পৃথিবী –এই চেয়েছিলে – ব্যর্থ পুরুষহারিনি আমরা এই দেখো নতদৃষ্টি সামনে রোদ …

গল্প

জষ্ঠির এই দুপুরে সূয্যি যেন একহাত নীচে নেমে এসেছে! এত তাতে চাঁদি ফাটা তো সাধারণ  কথা, লোহার রেল লাইনও যে গলে আলকাতরা হয়ে এদিক ওদিক গড়িয়ে আসছে না, একথা ভেবে রেবতী অবাক মানে! ওরে রোদ্দূর রে রোদ্দূর! আর এই ব্রহ্মতালু-তাতানো রোদে মাকড়াগুলোকে দেখো, হর্ন বাজিয়েই চলেছে! যেন বাবার বিয়ে লেগেছে! …

ওই যে দেখা যাচ্ছে, হাড্ডি চর্মসার এক মানব অবয়ব ধীর গতিতে হেঁটে আসছে.. দরজা খোলাই ছিল, ভিজে ছাতাটা গেটের মধ্যে ঝুলিয়ে রেখে দু’ধাপ সিঁড়ি বেয়ে উঠে এল ডাইনিংএ।  —”পুরো ভিজে গেলাম।” সে বলল। —”ওঃ এই বৃষ্টির মধ্যে তুমি তো আজকে না আসতে পারতে!” বললাম। —”না গো বৌদি, বাইরে থাকলেই বরং …

তুমি শুনেছ ?  হ্যাঁ,  পাখির ডাকে ঘুম ভেঙেছিলো জীবনে একবার। সে গল্প তোমাকে তো বলেছিলাম।  বাব্বা,  বেশ মনে পড়ে আমি তখন ফ্রক ছেড়ে শাড়ি ধরেছি। একদিন দেখলাম একটা চাকু নিয়ে ঘুরছে। আমাকে বলল – সাবধানে চলাফেরা করবি ; তোদের রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। অথচ জানো একদম ভয় পাইনি। তুমি তখন …

বিশেষ রচনা

 নারী দিবসের প্রাক্কালে প্রকাশিত কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সমীক্ষা রির্পোট থেকে আমরা জানতে পারছি যে, পশ্চিমবঙ্গের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সের প্রায় অর্ধেক মেয়ে, কেবলমাত্র বাড়ির কাজ করেই দিন কাটাচ্ছে। রাজ্যে কোভিড পূর্ববর্তী (২০১৯ সাল) সময়ে করা অন্য একটি সমীক্ষা (জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা বা এন.এইচ.এফ.এস) ২০২২ সালে প্রকাশিত হলে সেই …

 (১১ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে Times পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বাংলা অনুবাদ) গত সপ্তাহে উত্তর হরিয়ানার একটি ছোট্ট দরিদ্র শহর নূহ’য় বুলডোজার দিয়ে শত শত বাড়ি ও দোকান ভেঙে দেওয়ার পর এখন গোটা শহরটি শুধুই পাথর আর ধ্বংসাবশেষের স্তূপ। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ধ্বংসপ্রাপ্ত সব বাড়ির বেশিরভাগই মুসলমানদের। স্থানীয় জনসংখ্যার শতকরা ৭৭ …

‘অরণ্য’ শব্দটা আমার ছেলের নামে আছে। ভারতের সংবিধানও এই শব্দের একরকম মানে করেছে। তবে সংবিধানের একটা মজা আছে, সুবিধেও– শব্দের অর্থ সেখানে স্থায়ী নয়, সরকারের সুবিধেমতো পালটে পালটে যায়। কখন কোন অঞ্চলকে অরণ্য হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হবে, কখন অভয়ারণ্য, কখন ডিমড ফরেস্ট (deemed forest) হিসেবে চিহ্নিত করা হবে সেসবের একচ্ছত্র …

বাদে বাদে জায়তে তত্ত্ববোধঃ শেষ পর্ব জাতীয়তাবাদ থেকে হিন্দু জাতীয়তাবাদ বিদ্যাসাগরকে নিয়ে বেশির ভাগ কথা আগের পর্বেই বলা হয়েছে। তাঁকে নিয়ে কথা একবার শুরু করলে সহজে শেষ হয় না। কি তাঁর ব্যক্তিগত কর্মময় ও ঝঞ্ঝাময় জীবন, কি তাঁর সমসাময়িক সমাজ, এ সব নিয়ে পাতার পর পাতা লিখে যাওয়া যায়। এবং …

আমি মন দিয়ে কবিতা পড়ছি বছর পনেরো। লেখার চেষ্টা করছি বারো বা তেরো বছর ধরে। এই স্বল্প সময়ে একটা কথা আমার প্রায়শই মনে হয়েছে, কবিতার অনেকগুলো পথ, কিন্তু কোনোটাই শর্টকাট নয়। এই দীর্ঘ পথগুলো একেকটা একেক ধরণের। কেউ রবীন্দ্রনাথ থেকে জীবনানন্দ হয়ে শক্তি ধরে জয়, কেউ হয়তো জয় থেকে শক্তি …

ও রক্তিপুরবি! ও আলোপুরবি! ও সত্যিভবানী! ও কোলিন সত্যিভবানী!আমি গভীর বনে যাব। সব বাঘ ভালুকে পাথর করে দাও।সব কাঁটাকে মোম বানিয়ে দাও। সব সাপকে কাঠি বানিয়ে দাও।বনের ভিতর থেকে বার করে হরিণদের সামনে দাঁড় করিয়ে দাও। (জংগলে শিকারে যাবার আগে বাইগাদের মন্ত্র,Verrier Elwin এর The Baiga থেকে নেওয়া) ঘন জঙ্গলের …

মেন্দালেখা গ্রাম, জেলা – গড়চিরলি, মহারাষ্ট্র  ১। আজ থেকে প্রায় তিরিশ বছর আগে, গোন্দ আদিবাসীদের একশ ঘরের এই গ্রাম, মেন্দালেখা, ঘোষণা করে যে “দিল্লি মুম্বাইতে আমাদের সরকার, আমাদের গ্রামে আমরাই সরকার। ২। এই গ্রামে কোনো  নির্বাচিত সরকার নেই। প্রতি মাসে গ্রামসভা মিটিং হয়। এই মিটিং-এ প্রত্যেক পরিবার থেকে একজন মহিলা …

পাড়ার গৃহবধুরা আমার  স্ত্রীকে  (অযাচিত)  পরামর্শ দিয়েছেন এ. সি. কেনার জন্য।  আমার স্ত্রী তাঁদের বোঝাতে চেষ্টা করেছেন, কেন আমাদের এ.সি. দরকার নেই। তার জন্য তাঁকে অন্যের বাঁকা কথা শুনতে হয়েছে, হজম করতে হয়েছে এবং তাতে অনর্থক শক্তি ক্ষয় হয়েছে।  আমাদের পারিবারিক বোঝাপড়া এই যে গাড়ি আর এ.সি. কিনবো না। কিন্তু …

মহাবিশ্বের অন্য কোনো গ্রহে প্রাণের চিহ্ন আছে কিনা তা নিয়ে অনুসন্ধান চলছে অবিরাম, কিন্তু আমাদের এই গ্রহটির প্রতি অণু-পরিমাণ স্থানেও যে প্রাণের বিপুল প্রবাহ তরঙ্গিত হয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত, তা প্রকৃতপক্ষেই বিস্ময়কর। প্রতি নিশ্বাসে নেওয়া হাওয়াতে হোক, ফেলে রাখা এক গেলাস জলে হোক, বা বিস্তীর্ণতর কোনো পরিসরে হোক – সর্বত্র তার …

নিউইয়র্ক টাইমস, ৮ মার্চ, ২০২৩, মূল ইংরেজি থেকে অনুবাদডঃ চমস্কি এবং ডঃ রবার্টস ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক। ডঃ ওয়াতুমুলএকটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিচালক। হোর্হে লুইস বোর্হেস একবার লিখেছিলেন যে চূড়ান্ত বিপদ ও সম্ভাবনাময় সময়ে বেঁচে থাকা হল ট্র্যাজেডি এবং কমেডি উভয়ই অনুভব করা, “একটি উদ্ঘাটনের আসন্নতা”য় নিজেকে ও বিশ্বকে …

সুব্রত মজুমদার
(৪ নভেম্বর ১৯৬১ – ৬ জুন ২০২৩)

পরিকল্পনা সম্পাদনা বিন্যাস

রূপায়ণ ও সহায়তা

অজন্তা ঘোষ, অম্লান বিশ্বাস, অরিন্দম পাল,  কুণাল দেব, গীতা সোম, চন্দ্রানী মুখোপাধ্যায়  জয়শ্রী গাঙ্গুলি  জয়া মিত্র  দিলীপ রায়, প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায়  প্রবীর মুখোপাধ্যায়  বিজয়া চন্দ  রুণা বসু, শৈবাল দত্ত, সন্দীপ রায় 

এই সংখ্যা নির্মাণে সবিশেষ কৃতজ্ঞতা

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়, সুজিত চৌধুরী, অশোক প্রামাণিক, সুবিমল ভট্টাচার্য, পূর্ণব্রত মিত্র. পার্থ দে ও মনোজ দে

এই সংখ্যা নির্মাণে সবিশেষ কৃতজ্ঞতা

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়, সুজিত চৌধুরী, অশোক প্রামাণিক, সুবিমল ভট্টাচার্য, পূর্ণব্রত মিত্র. পার্থ দে ও মনোজ দে

প্রচ্ছদ ও প্রতিকৃতি

সমীর ভট্টাচার্য

বিন্যাস ও অলঙ্করণ

অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায়

সহযোগী সম্পাদক

জয়হিন্দ বসু

সম্পাদক

প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায়

প্রচ্ছদ | সেপ্টেম্বর ২০২৩